মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ জুন ২০১৪

ওয়েব বেইজ‌্ড্ ল্যান্ড আপীল কেইস ম্যানেজমেন্ট এপ্লিকেশন সিস্টেম

ভূমি আপীল বোর্ড

ওয়েব বেইজ‌্ড্ ল্যান্ড আপীল কেইস ম্যানেজমেন্ট এপ্লিকেশন সিস্টেম

 

ড. মোঃ আবদুর রব হাওলাদার

চেয়ারম্যান, ভূমি আপীল বোর্ড

০১৭৩২৬৪২২৬৯

 

 

                     সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ‌‌সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দ্বারা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কৃষি নির্ভর এ বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে হলে দক্ষ ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তিনি ১৯৭২ সালের ১৫ই আগষ্ট তারিখে  Land Holding Order এবং Rules জারী করে জোতদারদের হাতে ভূমি পূঞ্জীভূত করার  সুযোগ ১০০ বিঘায় সীমিত করে দেন। এতে ভূমির সদ্ব্যবহার উৎসাহিত হয় এবং জোতদার ও ভূমিহীনের সংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি হ্রাস পায়। ১৯৭২ সালের ৯৬ নং আদেশ বলে তিনি ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির ভূমি রাজস্ব মওকুফ করে দেন। এর ফলে বাংলার দূঃখী কৃষকদের মাথা থেকে খাজনা দেয়ার বোঝা চিরতরে দূরীভূত হয়। এতে প্রকৃত চাষীরা উপকৃত হয় এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হয়। এছাড়া চর জমি বন্দোবস্ত প্রদান, সিকস্তি ও পয়স্তি জমি ব্যবস্থাপনাসহ ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতির পিতা ব্যাপক সংস্কার সাধনের মাধ্যমে নব দিগন্তের সূচনা করেন। 

         

২।     এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার সূযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০০১ প্রনয়ন, আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভূমি বাবস্থাপনায় দক্ষতা উন্নয়ন ও জনগনের ভোগান্তি লাঘব, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইন ও বিধিমালা পাশসহ ব্যাপক সংস্কারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ ছাড়াও বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অংগীকার নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৪ এ ঘোষণা করেছেন যে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব জমির রেকর্ড ডিজিটালাইজড করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকার দারিদ্র বিমোচন ও আধুনিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষ ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য করার এবং এক্ষেত্রে বিরাজমান দূর্নীতি, অদক্ষতা, হয়রানি ও জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। অনলাইনে রাজস্ব মামলার অবস্থান যাচাই, শুনানীর তারিখ ও অন্যান্য তথ্যাদি সহজলভ্য করে জনগণের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি কমানোর এক প্রশংসনীয় নীতি সরকার ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছেন।

 

৩।  সরকারের এই মহতী নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ রাজস্ব আদালত ভূমি আপীল বোর্ড ওয়েব বেইজ্ড্ ল্যান্ড আপীল কেইস ম্যানেজমেন্ট এপ্লিকেশন সিস্টেম শিরোনামে একটি কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এ কর্মসুচীর জন্য ইতোমধ্যেই সরকারী বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং কর্মসূচীটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি আপীল বোর্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কর্মসূচীর প্রধান অংগসমূহের মধ্যে সার্ভার কক্ষ উন্নয়ন, হার্ডওয়্যার সংগ্রহ, সফটওয়ার সংগ্রহ ও কাস্টোমাইজেশন, ভূমি আপীল বোর্ড নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন, লাইব্রেরী ও রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি যোগান দেয়ার জন্য প্রশিক্ষণ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

 

৪।  এ কর্মসূচী বাস্তবায়িত হলে নিন্মলিখিত সেবাসমূহ সহজলভ্য হবে :

  1. ভূমি আপীল  বোর্ডে মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত তথ্য সম্পর্কে বিচার প্রার্থীদের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা অনলাইনে প্রাপ্যতা।
  2. ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন এর সংযোগ স্থাপন করে জনগণ এবং সেবা   গ্রহীতাদের নিকট অতি সহজে তথ্য সেবা আদান প্রদান।
  3. ভূমি আপীল বোর্ড ও রাজস্ব সম্পর্কিত সকল আইন, পরিপত্র, বিধি, আদেশ ইত্যাদি ওয়েবসাইট এবং ইন্টারনেট এর মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করা।
  4. নানাবিধ পর্যায়ে ভূমি আইন, মামলার রায়, নথির আদেশসহ সকল প্রকার অনুশাসন জনগণের নিকট সহজলভ্য করা।
  5. ভূমি আপীল বোর্ড এর সেবাসমূহের প্রোসেস ম্যাপ তৈরীর ফরম্যাট এবং সেবাসমূহ প্রাপ্তির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা অগ্রাধিকার চিহ্নিত/নির্ণয় করা।
  6. অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার এবং বোর্ডের একক ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সর্বশেষ আদেশ/রায়সমূহ এবং দি বেঙ্গল রেকর্ড ম্যানুয়াল, ১৯৪৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য এবং মামলার প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ওয়েবসাইট/ইন্টারনেট এর মাধ্যমে সরবরাহের লক্ষ্যে একটি ডাটা বেইজ তৈরী করে মামলা নিষ্পত্তির হালনাগাদ চিত্র এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে তথ্য প্রদান।
  7. ভূমি তথ্যের  ব্যাকআপসহ স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা হবে।

 

৫।  এ সকল সেবার মাধ্যমে জনসাধারণ, সংক্ষুব্ধ পক্ষসমূহ, সরকার, ভূমি আপীল বোর্ড, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী এজেন্সী/সংস্থা, আইন ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ ও গবেষকবৃন্দ সকলেই উপকৃত হবেন বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে এর ফলে মামলার নিস্পত্তি ত্বরান্বিত হবে, মামলার নথি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে এবং জনগনের ভোগান্তি হ্রাস পাবে। এ কর্মসূচী আরো ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে যে কোন গঠনমূলক পরামর্শ সাদরে গৃহীত হবে।

 

 

Web based Land Appeal case management Application System.pdf

Share with :
Facebook Facebook